খুলনা, বাংলাদেশ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা
  ১১ বছরের পথচলায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উৎসবের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের অঙ্গীকার
  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও ভেজাল: দেখার কেউ নেই

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে জমে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির অবাধ ব্যবসা। উপজেলার হাট-বাজারসহ গ্রামগঞ্জের ছোট-বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলোতে মানা হচ্ছে না ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি। খোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে পচা-বাসি খাবার, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিষ্টিতে ক্ষতিকর রঙ ও রাসায়নিক মেশানো এবং পুরোনো পোড়া তেল বারবার ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন বেকারি ও হোটেল মালিকদের বিরুদ্ধে।উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ডুমুরিয়া বাজার, চুকনগর, শাহপুর, রঘুনাথপুর,থুকড়া আমবিটা,খর্নিয়া, , ধামালিয়া ও আঠারো মাইল,কাঠাল তলা,চুকনগর শরাফপুর,বানিয়া খালিসহ প্রধান প্রধান বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ড্রেনের পাশে বা খোলা জায়গায় অবস্থিত। মাছি ও ধুলোবালির মধ্যে খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে খাবার। কর্মচারীদের নেই পরিচ্ছন্ন পোশাক বা গ্লাভস। মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত ছানা ও শিরার পাত্রে দেখা গেছে মশা-মাছির উপদ্রব।খাবারের এসব নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ এবং ভেজাল রোধে তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয় ভোক্তারা। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন।এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. কাজল মল্লিক বলেন, “অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ভেজাল রাসায়নিক সেবনের ফলে মানুষের পেটের পীড়া, লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।“উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক সুকেন্দ্র নাথ এ প্রসঙ্গে জানান, “আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার চেষ্টা করি। ইতিমধ্যে একাধিক হোটেল ও মিষ্টির দোকানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সতর্কবার্তা ও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরও যারা নিয়ম অমান্য করে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। খুব শীঘ্রই জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে দোষী হোটেল ও ভেজাল প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোকদেখানো নোটিশ বা সাময়িক সতর্কবার্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হোক, যাতে উপজেলার সাধারণ মানুষ বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের হাত থেকে রক্ষা পায়।ডুমুরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও ভেজালের মহোৎসব: দেখার কেউ নেই।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT